প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করা স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সুকদেব চন্দ্র হলদার। স্ত্রীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উল্লাপাড়ার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে সুকদেব চন্দ্র হলদার বলেন, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়ীয়া নতুনপাড়া গ্রামের প্রিয়া রানীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয়েই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গত ১১ জুন ২০২৬ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্থানীয় একটি কালীমন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। পরে হিন্দু ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর তারা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
তিনি জানান, বিয়ের পর প্রিয়া রানীর বাবা উল্লাপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের রাণীশংকৈলের বাসা থেকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রিয়ার বক্তব্য নেওয়ার পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দিলে তারা আবারও ভাড়া বাসায় ফিরে যান।
সংবাদ সম্মেলনে সুকদেব অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুন সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পর কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে তার শ্বশুর হরিপদ হলদার, ওসিম হলদার, কালাচাঁদ হলদার, বিপ্লব হলদার, অমূল্য হলদার, তুষারসহ ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাদের বাসায় যান। এ সময় সেখানে থাকা লোকজনকে মারধর করে তার স্ত্রী প্রিয়া রানীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর রাণীশংকৈল থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুকদেব চন্দ্র হলদার তার স্ত্রীকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/এএএম/সিই







