সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিএনজির এক যাত্রী আহত হয়েছেন। তাকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামের গুতু রাজবংশীর ছেলে ঠাকুর হালদার (৬৫) এবং কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর গ্রামের আলী আকতার ফকিরের ছেলে সিএনজি চালক আশিক (৩৫)। আহত ব্যক্তি ঠাকুর হালদারের ছেলে বিষ্ণু হালদার। তিনি সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরে মাছ ধরার জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঠাকুর হালদার ও তার ছেলে বিষ্ণু হালদার। পরে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজার থেকে একটি সিএনজিতে করে তারা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে রওনা হন।
পথে বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সিএনজি অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক আশিক ও যাত্রী ঠাকুর হালদারের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত বিষ্ণু হালদারকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিহতদের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে যান। আহত বিষ্ণু হালদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সিএনজি চালক আশিকের ভাতিজা ইসমাইল হোসেন বলেন, ভোরে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আশিক। সকাল ৬টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে আশিককে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
ভোরের এই দুর্ঘটনায় একসঙ্গে দুটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাবার সঙ্গে মাছ ধরার জাল নিয়ে বের হওয়া ঠাকুর হালদার আর ফিরতে পারেননি বাড়িতে। আর জীবিকার তাগিদে ভোরে সিএনজি নিয়ে বের হওয়া আশিকও ফিরেছেন নিথর হয়ে।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/সিই