টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি টানা ১১ দিন ধরে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হার্ড পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং মেঘাইঘাটে ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়ন বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হচ্ছে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকা।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসেই অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টারসহ বহু বসতভিটা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, গত দুই বছরে যমুনা তার প্রায় ১৫ বিঘা জমি কেড়ে নিয়েছে। এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব। একই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেনও নদীভাঙনে ১০ বিঘা জমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
চৌহালীর খাসপুকুরিয়া গ্রামের শাহিনুর বেগম বলেন, “দুই বছরে তিনবার ঘর সরাতে হয়েছে। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।”
সদর উপজেলার কাওয়াকোল চরাঞ্চলের কৃষক আলী আহমেদ বলেন, “জমির সঙ্গে আমাদের স্বপ্নও নদীতে ভেসে যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, প্রতিবছর সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলার পরিবর্তে স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
তবে নদীপাড়ের মানুষের আশঙ্কা, কার্যকর ও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতি বর্ষায় যমুনার ভয়াল ভাঙনে আরও অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারাবে।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/এসএস/সিই