সরকার বদলেছে। বদলেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। কিন্তু চৌহালীর জসিম মাহমুদের অনলাইন জুয়ার ব্যবসা থামেনি এতুটুকুও। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে অনলাইন জুয়ার ব্যবসা শুরু করেন জসিম মাহমুদ ওরফে জুয়া জসিম । কয়েক বছরের ব্যবধানে মোবাইল মেরামতের ছোট দোকান থেকে গড়ে তোলেন বড় ব্যবসা ও বিপুল সম্পদের মালিকানা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও আবারও জুয়ার ব্যবসায় সক্রিয় অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের এই মূল হোতা। আর বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চৌহালীর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন জসিম। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত চলাফেরা ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, মিছিল ও সভা-সমাবেশেও তাঁকে দেখা যেত বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে এই যোগাযোগের কারণে এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। একই সময়ে বিস্তৃত হতে থাকে অনলাইন জুয়ার ব্যবসাও।
জসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন কয়েকজনের দাবি, অনলাইন জুয়া থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করতেন তিনি। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, মিছিল-মিটিং এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন জসিম।
স্থানীয়দের দাবি, জসিমের যোগাযোগ শুধু চৌহালীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গেও তাঁর ওঠাবসা ছিল। তাদের অভিযোগ, জুয়ার ব্যবসা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আওয়ামী মদদপুষ্ট প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন তিনি। আর্থিক সুবিধাসহ নানা উপঢৈৗকন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন প্রকাশ্যে ছিলেন না জসিম এমন দাবি স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, ওই সময় অনেকটা আড়ালে চলে গেলেও কয়েক মাস পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। অন্তবর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে জসিমও তাঁর যোগাযোগের রুট পরিবর্তন করেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে আবারও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম চালু রাখেন তিনি।
অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও অভিযান চললেও চৌহালীতে জসিমের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন তিনি।
অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন জুয়ার চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার হচ্ছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সিম ও লেনদেনের তথ্য। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে জসিমের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়ার অভিযোগ থাকার পরও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? তাদের দাবি, তাঁর জুয়ার নেটওয়ার্ক শুধু চৌহালীতে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের বর্ণনায় একটি ধারাবাহিকতার কথা উঠে এসেছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ব্যবসা করেছেন জসিম। সরকার পতনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও পরে আবার সক্রিয় হয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে একই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকার বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন জসিম মাহমুদ। তবে তাঁর দাবি, বর্তমানে তিনি আর অনলাইন জুয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। বর্তমানে আমদানি করা পণ্যের ব্যবসা করেন এবং এই ব্যবসাই তাঁর আয়ের উৎস বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/এএস/সিই