চৌহালীতে চাঁদাবাজির সময় বিএনপি নেতা অবরুদ্ধ – Sirajganj Times

চৌহালীতে চাঁদাবাজির সময় বিএনপি নেতা অবরুদ্ধ

বকুল শিকদার, বিএনপি নেতা।- ছবি: সিরাজগঞ্জ টাইমস

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বিএনপি নেতা বকুল শিকদারের বিরুদ্ধে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন বকুল শিকদার।  তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঘুটিয়া ইউনিয়নের নদীপথে একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে বকুল শিকদার ও তার লোকজন চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাল্কহেডটি জোরপূর্বক উপজেলা সদরের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকশ মানুষ নৌকা নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। পরে খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর অংশের যমুনা নদীতে তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বকুল শিকদারের সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে ফেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করেন।

এদিকে, ধাওয়াকারীদের একটি নৌকা থেকে এক ব্যক্তি নদীতে পড়ে গেলে বকুল শিকদারের লোকজন তাকে তুলে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, বকুল শিকদারকে প্রতি সপ্তাহে ৭ হাজার টাকা চাঁদা করে দিয়ে আসছিলেন তারা। সম্প্রতি টাকা দিতে একদিন দেরি হওয়ায় বকুল ও তার সহযোগী হেলাল এসে ঝামেলা করেন এবং একপর্যায়ে বাল্কহেড নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার দাবি, বকুল শিকদারের সহযোগী হেলাল উদ্দিন চাঁদ নিজেকে সিরাজগঞ্জের শীর্ষ বালু ব্যবসায়ী ‘সাত্তার কমিশনারের’ লোক পরিচয় দিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে একইভাবে একটি বাল্কহেড ধরে নিয়ে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় বকুল শিকদারের নেতৃত্বে হেলাল উদ্দিন চাঁদ, তার ভাগিনা মাসুদ শিকদার, রিপন মিয়াসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভিটেমাটি হারানো মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য মাটি বহনকারী একটি বোট আটকে বকুল শিকদার ও তার সহযোগীরা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে হট্টগোল ও মারামারি হলেও পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তার দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নৌযান ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে থাকেন বকুল শিকদার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বকুল শিকদারের বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ টাইমস/সিই