শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সরকারের নজরদারিতে মন্ডল গ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ – Sirajganj Times

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সরকারের নজরদারিতে মন্ডল গ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ

মন্ডল গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমিন মন্ডল এবং স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি এ কে এম মোশাররফ হোসেন।- ছবি: সিরাজগঞ্জ টাইমস

কৌশলে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির ও শিল্প এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজরদারিতে এসেছে সিরাজগঞ্জের দুই শিল্পপতির মালিকানাধীন শিল্পগ্রুপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গ্রুপ দুটি হলো বেলকুচির আব্দুল মোমিন মন্ডলের মালিকানাধীন মন্ডল গ্রুপ এবং কাজিপুরের ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হোসেনের স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ।

এসব গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মন্ডল গ্রুপের ৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে সংস্থাটির নজরদারির তালিকায়। অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে তালিকায়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ডল গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন মন্ডল। তালিকায় গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মন্ডল ইন্টিমেটস লিমিটেড, কটন ফিল্ড (বিডি) লিমিটেড, কটন ক্লাব (বিডি) লিমিটেড, কটন ক্লোথিং (বিডি) লিমিটেড, মন্ডল ফেব্রিকস লিমিটেড, ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড, মার্ক সোয়েটার লিমিটেড, মন্ডল স্পিনিং মিলস লিমিটেড, অ্যাপোলো ফ্যাশন লিমিটেড, মন্ডল নিট কম্পোজিট লিমিটেড ও মন্ডল নিটওয়্যারস লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আব্দুল মোমিন মন্ডল সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য।

অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তালিকায় রয়েছেন গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হোসেন। এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। তালিকায় আরও রয়েছেন হোসনে আরা বেগম, ইঞ্জিনিয়ার মো. আতিকুর রহমান, মাহমুদা বেগম, তাসমিয়াহ রহমান, হাসনাত মোশাররফ, ফারিয়া রহমান, ফাহিম মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ।

এনবিআর সূত্র জানায়, শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন ও সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ না করে আপাতত লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের কার্যক্রম চলার কথা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কারণে সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সম্প্রতি পোশাক খাতের অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ কাজে কিছু শিল্পমালিকও জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: সমকাল, যুগান্তর ও জাগোনিউজ

 

সিরাজগঞ্জ টাইমস/সিই