সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দের প্রায় ৪৮ টন সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হেকমত আলীর দিকে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘোড়জান, খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও উমারপুর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৫৮ মেট্রিক টন চাল যথাযথভাবে বিতরণ না করে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম আবার চাল দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে বুধবার বাঘুটিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান শাকিল। সরেজমিনে গিয়ে দুটি ইউনিয়নেই সরকারি চালের হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে ৬০০ বস্তা বা ১৮ মেট্রিক টন চাল থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় ৫২০ বস্তা। অর্থাৎ ৮০ বস্তা বা ২ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে। আর খাষপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে ৫ মেট্রিক টন চাল থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো চাল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি ইউনিয়নের বরাদ্দের চাল বিতরণ না করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে তড়িঘড়ি করে চাল সংগ্রহ করে গুদামে রাখার চেষ্টা করা হয়।
উমারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চাল বরাদ্দের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পিআইও তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ডিওতে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এখন শুনছি, পরিষদের বরাদ্দের সব চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হেকমত আলী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চেয়ারম্যানদের বরাদ্দের চাল উত্তোলন বা বিতরণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, ‘সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে চালের কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। সব চেয়ারম্যানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সরকারি চালের বরাদ্দ, উত্তোলন, বিতরণ ও গুদামের মজুদের হিসাব মিলিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/আইএইচএ/সিই/