সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর মাধ্যমে এই চিঠি প্রেরণ করা হয়। পরে তিনি নিজ ফেসবুক আইডিতে চিঠিটি প্রকাশ করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষিত হলেও বর্তমান জেলা কমিটি বহাল রয়েছে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য আটটি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও সিরাজগঞ্জে তা হয়নি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণার পরও বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি বহাল কেন? এটি কি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত, নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়নি? এ অবস্থায়, বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে স্বচ্ছ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা জরুরি বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।
বর্তমান জেলা বিএনপি নেতৃত্ব অনুমোদিত ১৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের বেশিরভাগই সিলেকশনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে; কোনো ইউনিটই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়নি। অধিকাংশ কমিটি পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে এবং সদস্য সংখ্যা সীমিত থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় আসন্ন সম্মেলনের ভোটার তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির আওতাধীন কোনো পৌরসভা, থানা বা উপজেলা কমিটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়নি; সবকটি কমিটিই জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত পকেট কমিটি। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ পরিবেশ তৈরি করছে।
চিঠিতে দ্রুত বর্তমান জেলা কমিটিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সব ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। এতে ১৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১,৮১৮ জন তৃণমূল নেতাকর্মীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাশেদুল হাসান রঞ্জন বলেন, “সারাদেশে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। দ্রুত কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা উচিত।”
একজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “যেমনভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তেমনি বর্তমান জেলা কমিটি রেখে সুষ্ঠু সম্মেলন সম্ভব নয়। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে অনেক নেতার প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। নিরপেক্ষ নেতাদের নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।”







