ভাগ্যাহত ভাষা মতিনের গ্রামে কলাগাছের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা – Sirajganj Times

ভাগ্যাহত ভাষা মতিনের গ্রামে কলাগাছের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা

 

বাংলা ভাষার জন্য যিনি সংগ্রাম করেছিলেন, সেই ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমি আজও রয়ে গেছে অবহেলিত। যেখানে সারাদেশে একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়, সেখানে মতিনের নিজ গ্রামের শিশুরা বাধ্য হয় কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করতে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা চরাঞ্চলের শৈলজানা নিম্নমাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারও নিজেদের হাতে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। বেঞ্চ দিয়ে বেদী বানিয়ে, চারপাশে রঙিন কাগজের পতাকা টাঙিয়ে, বুকে ভালোবাসা নিয়ে তারা স্মরণ করেছে ভাষা শহীদদের। একে একে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গ্রামবাসী সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

তবে, এই দৃশ্য অনেকের কাছেই কষ্টের। ভাষা মতিনের কর্ম ও চিন্তা নিয়ে গবেষণা করা হান্নান মোর্শেদ রতন বলেন, “যিনি মাতৃভাষার জন্য লড়াই করলেন, তার নিজ গ্রামেই নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার! এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আশা করি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং এখানে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার, পাঠাগারসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।”

স্থানীয়দের মতে, ২০১০ সালে একটি এনজিওর সহায়তায় চাঁন্দইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি শহীদ মিনার ও পাঠাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে যমুনার ভয়াল ভাঙনে তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আরেকটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও সেটিও নদীর গর্ভে হারিয়ে যায়। ফলে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীরা বাঁশ-কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করছে। কিন্তু প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কেউই এগিয়ে আসেননি।

শৈলজানা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, “এই চরাঞ্চলে বেশিরভাগ স্কুলেই শহীদ মিনার নেই। তাই শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে শহীদ দিবস পালন করছে। অথচ সারাদেশে আধুনিক শহীদ মিনার থাকলেও ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের গ্রাম এখনো উন্নয়নবঞ্চিত।”

তবে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মিয়া জানান, “ভাষা মতিনের গ্রামে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তার স্মরণে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষের নামকরণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।”

এদিকে, গ্রামের শিশুরা আর কলাগাছের শহীদ মিনারে নয়, কংক্রিটের স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিতে চায়।