সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরের চাঁদপুরে যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে প্রায় ২৫টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে গবাদিপশু, ঘরবাড়ির টিনের চালসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভেসে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানানা, শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে যমুনার স্রোত হঠাৎ বেড়ে গেলে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর চরের একাধিক বাড়ি মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যায়। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ ঘরের খুঁটি খুলছে, কেউবা টিনের চাল সরিয়ে নিচ্ছে। নারী-শিশুরা বিছানা, রান্নার সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
৭৩ বছর বয়সী আতাহার মণ্ডল বলেন, “আমার জীবনে প্রায় ২০ বার বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া দেখলে মন মানে না। এখন আমরা যাবো কোথায়?”
সদিয়া দেওয়ানতলা সংকরহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে স্কুল ভবন। অন্তত পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে।”
শিক্ষক ইকবাল হোসেন, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, চরের আশপাশে অন্তত ১২টি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা দ্রুত তীররক্ষা বাঁধ ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের দাবি জানান।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











