সিরাজগঞ্জ শহরে ডাস্টবিন যেন ‘ডিজিটাল অভিশাপ’! (ভিডিও সহ) – Sirajganj Times

সিরাজগঞ্জ শহরে ডাস্টবিন যেন ‘ডিজিটাল অভিশাপ’! (ভিডিও সহ)

বছর না ঘুরতেই অকেজো সিরাজগঞ্জ শহরের ডিজিটাল ডাস্টবিন । ছবি: মো. জাহিদ হাসান

আধুনিকতার নামে দুর্গন্ধের শহর

সিরাজগঞ্জ শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে বসানো ‘ডিজিটাল ডাস্টবিন’ এখন নাগরিক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়ক ও আবাসিক এলাকার সামনে স্থাপন করা এই ডাস্টবিনগুলো বছর না ঘুরতেই অকেজো হয়ে গেছে। ফলে রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ

পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা শহরের এসএস রোড, মুজিব সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিজিটাল ডাস্টবিন স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ছিল উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডাস্টবিনগুলো বেশিরভাগই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে রাস্তায় ময়লা ফেলছেন। ফলে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। অনেক জায়গায় এই ডাস্টবিনগুলোর ঢাকনাও ভেঙে পড়েছে, যা জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

শুধু প্রধান সড়কই নয়, দোকানপাট, বাজার, স্কুলের সামনেও জমছে ময়লার স্তূপ। ফলে এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিজিটাল নামে আধুনিকতা এনেছে, কিন্তু ব্যবস্থাপনার অভাবে আমাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। আগে যেখানে ময়লা ফেলতাম, এখন সেখানে ফেলার জায়গাও নেই।’

এই অব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে চিকিৎসকরা। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিতুল ভৌমিক বলেন, ‘এই ময়লার স্তূপ থেকে বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজিটাল ডাস্টবিনগুলো কার্যকর করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

তবে নাগরিকদের মধ্যে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ আগেও একাধিকবার এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আধুনিক ডাস্টবিন বসালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং তা রক্ষণাবেক্ষণেরও যথাযথ ব্যবস্থা থাকা দরকার। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা এই ‘ডিজিটাল অভিশাপ’ থেকে মুক্তির আশায় আছেন। আধুনিকতার নামে যেন আরও দুর্ভোগ না হয়, সেই দাবি এখন শহরবাসীর মুখে মুখে।