চৌহালীর দুর্গম চরে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ’ঘোড়ার গাড়ি’ – Sirajganj Times

চৌহালীর দুর্গম চরে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ’ঘোড়ার গাড়ি’

সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী বাহন। তবে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনার চরে এখনো টিকে আছে সেই বাহনটি। শুষ্ক মৌসুমে পানি সরে গিয়ে চর জাগলে, এখানকার মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের প্রধান বাহন হয়ে ওঠে ঘোড়ার গাড়ি।

উপজেলার প্রায় ১০টি চর এবং দ্বীপচরে যোগাযোগের আর কোনো বিকল্প নেই। বাদাম, গম, ভুট্টা, বোরো ধানসহ নানা কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি।

ঘোড়ার গাড়ি চালক মো. বাদশা মিয়া বলেন,”বর্ষায় নৌকা চালাই, আর শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি। দিনে ৭০০-৮০০ টাকা রোজগার করি। তবে ঘোড়ার খাবারের পেছনে ৩০০ টাকার মতো খরচ হয়ে যায়। বাকি দিয়ে সংসার চলে।”

এক সময় এই এলাকায় মাত্র ৩০-৩৫টি ঘোড়ার গাড়ি ছিল, এখন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০টি তে। ফলে অনেকের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুদ্দু মিয়া জানান, “ভূতের মোড় আর হাটাইল ঘাটে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসছে। তাই ঘোড়ার গাড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।”

তবে সমস্যা রয়েছে অন্যদিকে। আধুনিক যোগাযোগের অভাবে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে চরবাসীর। বালুমিশ্রিত, ধুলো উড়ানো কাঁচা রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ির ঝাঁকুনিতে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাঈদ আলী বলেন, “কেউ অসুস্থ হলে ঘোড়ার গাড়িতে হাসপাতালে নিতে খুবই কষ্ট হয়। যদি সরকার এই রাস্তাগুলো পাকাকরণের উদ্যোগ নিত, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমতো।”

চরবাসীর স্বপ্ন একদিন আধুনিক সড়ক সুবিধা তাদের এলাকাতেও পৌঁছাবে। তবে সে পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়িই তাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গি।