সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের চার বছর পর এক গৃহবধূর পেট থেকে একটি কাঁচি বের করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের বিরুদ্ধে গুরুতর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী ওই নারী উল্লাপাড়া উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আল্পনা খাতুন। ২০২১ সালের ১৩ আগস্ট উল্লাপাড়া পৌর শহরের শ্যামলীপাড়া এলাকায় অবস্থিত কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই আল্পনা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি কেয়া হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে চিকিৎসকরা জানান, দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে এমন ব্যথা স্বাভাবিক। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যথা কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যায় এবং বমির সমস্যাও দেখা দেয়।
দীর্ঘদিন শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবার বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়। তাতেও অবস্থার পরিবর্তন না হলে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর তাকে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতরে একটি কাঁচির অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কাঁচিটি অপসারণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী আনোয়ার হোসেন কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “পাঁচ বছর আগে সিজার হওয়া ওই রোগীর কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।”
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন জানান, অভিযোগটি এখনও তার দপ্তরে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।
সিরাজগঞ্জ টাইমস/সিই











