উল্লাপাড়ায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন, দুই থানার ওসিসহ ১৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা – Sirajganj Times

উল্লাপাড়ায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন, দুই থানার ওসিসহ ১৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে এক ট্রাক চালক মামলার করেছেন। উল্লাপাড়া থানা ও সলঙ্গা থানার সাবেক ওসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তা ও অজ্ঞাত ১০ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে এই মামলা করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ:
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে ট্রাক চালক রোকন মোল্লা (৩৬) নিজেই মামলাটি দায়ের করেন। তিনি পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার নেছরাপাড়া এলাকার রহমত মোল্লার ছেলে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম হাদী কিরন জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারকে (এসপি) রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা:
১. উল্লাপাড়া থানার সাবেক ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম
২. সলঙ্গা থানার সাবেক ওসি এনামুল হক
৩. সলঙ্গা থানার সাবেক তদন্ত ওসি শেখ তাজউদ্দিন আহমেদ
৪. উল্লাপাড়া থানার সাবেক সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুস ছালাম
৫. সলঙ্গা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মনসুর রহমান
৬. সলঙ্গা থানার সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল কুদ্দুস
অজ্ঞাতনামা আরও ৯ পুলিশ সদস্য

ঘটনার বিবরণ:
২০২৪ সালের ৫ মে রাত ১টার দিকে বগুড়া থেকে পাবনা যাওয়ার পথে উল্লাপাড়ার কাওয়াক মোড়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে রোকন মোল্লার ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উল্লাপাড়া থানার তৎকালীন ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম রোকনের দিকে অস্ত্র তাক করেন।

ভয়ে রোকন দ্রুত ট্রাক ঘুরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার পুলিশ তার পিছু নেয়। পরে রাজশাহী-পাবনা মহাসড়কের হরিণচড়া এলাকায় তাকে আটক করে মারধর করা হয়। ওসি আসিফ মুহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম তার ডান পায়ে গুলি করেন এবং সলঙ্গা থানায় নিয়ে গিয়ে তিনটি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে তাকে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
রোকন মোল্লা বলেন, “ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে মামলা করতে পারিনি। জামিনে মুক্তি পেয়ে আমি বিচার চাই।”

প্রতিক্রিয়া:
অভিযুক্ত ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক।”

আদালতের নির্দেশ:
ভিক্টিমের মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি রুজু করার জন্য সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।